সাবরেজিস্ট্রার নূরুল আমিন তালুকদার দুদকের জালে বন্ধী 

সাবরেজিস্টার নূরুল আমিন তালুকদার অনিয়ম দূর্নীতি করে কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সাবরেজিস্ট্রার নূরুল আমিন তালুকদার দুদকের জালে বন্ধী 

সাবরেজিস্টার নূরুল আমিন তালুকদার অনিয়ম দূর্নীতি করে কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাকুরী জীবনে বিভিন্ন কর্মস্থলে থেকে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে জমি রেজিষ্ট্রি করে কোটি কোটি টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন নামে-বেনামে। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি।

গাজীপুর জেলা টঙ্গী সাব-রেজিষ্ট্রার থাকালীন সেখানেও টাকার বিনিময়ে নিয়ম কে অনিয়ম বানিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ভরি ভরি অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে, আইন মন্ত্রণালয়, আইজিআর এর নিকট একাধিক অভিযোগ করলেও বিগত সময় তার কালো টাকার প্রভাবে সেই সকল অভিযোগ আজও আলোর মুখ দেখেনি।

লীগ সরকারের আমলে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কাছের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন আইন মন্ত্রণালয়ে। সূত্রে জানা জায় নূরুল আমিন তালুকদারের মুক্তিযুদ্ধের সময় বয়স ছিল মাত্র সাত বছর। কিন্তু ওই বয়সেই মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী ছিলেন এমন সনদ বাগিয়ে নেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নূরুল আমিন তালুকদার। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সেই সনদে নেন সরকারি চাকরি। এরপর ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন টাকার পাহাড়।

ঘুষের বিনিময়ে জমির শ্রেণি পরিবর্তন, মালিকানার সঠিকতা যাচাই-বাছাই না করেই দলিল রেজিস্ট্রির মাধ্যমে অর্জন করেছেন এসব সম্পদ। নিজের নামে ছাড়াও স্ত্রী-মেয়ের নামেও জমিসহ ব্যাংকে রেখেছেন কোটি কোটি টাকা। বিগত সময় টংগী সাবরেজিস্টার পদে কর্মরত থাকাকালে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন। নূরুল আমিন বর্তমানে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সাবরেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন সম্প্রতি পিআরএল এ গেছেন তিনি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানেও নূরুল আমিনের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুর্নীতিবিরোধী এই সংস্থাটি বলে দুদক সূত্রে জানা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭১ সালে বাবা-মায়ের সঙ্গে টাঙ্গাইলের গ্রামের বাড়িতেই থাকতেন নূরুল আমিন তালুকদার। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১৯৬৪ সালের ১২ ডিসেম্বর। সে অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র সাত বছর। ছিলেন প্রথম শ্রেণির ছাত্র। তাঁর পরিবারের কেউ মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নেননি। তার পরও ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী ছিলেন মর্মে সনদ সংগ্রহ করেন নূরুল আমিন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সাবরেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন তিনি।

যোগদানের পর থেকে দূর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিলেন উক্ত সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস কে। টাকা হলেই অসৎ উপায়ে দলিল সম্পাদন করতেন তিনি। অন্য দিকে সরকারের প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব ফাকি দিতেন। বিনিময়ে নিজের পকেট ভারী করতে সদ্য পিআরএল এ যাওয়া সাব-রেজিষ্ট্রার নুরুল আমিন। দুদক সূত্রে জানা গেছে, সাবরেজিস্ট্রার নূরুল আমিন তালুকদার নিজ, স্ত্রী ও সন্তানের নামে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন।

ঢাকা, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরে রয়েছে তাঁর একাধিক বাড়ি-ফ্ল্যাট। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ঘাটান্দি গ্রামে তাঁদের অঢেল সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুদক। তাঁর স্ত্রী গৃহবধূ নুরুন্নাহার খানম এবং মেয়ে জিনাতের নামে থাকা প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা জব্দ করেছে দুদক। দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় ২০২৩ সালের ২৩ জুলাই টাঙ্গাইল জেলা দায়রা জজ আদালতে সম্পদ জব্দের আবেদন করে দুদক। পরে চলতি বছরের ৫ জুন টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ নাজিমুদ্দৌলা সাবরেজিস্ট্রার নূরুল আমিন তালুকদার, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেন।

দুদক সূত্র আরোও জানা যায়, নূরুল আমিনের চারটি ব্যাংক হিসাবে ১২ লাখ ১ হাজার ১১১ টাকা, স্ত্রী নুরুন্নাহারের ১০টি ব্যাংক হিসাবে ৪ কোটি ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৬৮ টাকা এবং মেয়ে জিনাত তালুকদারের চারটি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ২৪ লাখ ৮২ হাজার ১৩৩ টাকাসহ সর্বমোট ৫ কোটি ৪১ লাখ ৩৬ হাজার ৬১২ টাকা জব্দ করা হয়। এ ছাড়া নুরুন্নাহারের ৭৫ শতাংশ স্থাবর সম্পত্তি এবং জিনাত তালুকদারের নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাট ও একটি টয়োটা গাড়ি জব্দের নির্দেশ দেন আদালত। উক্ত অভিযোগের সত্যতা জানার জন্য সাব-রেজিষ্ট্রার নূরুল আমিনের মোবাইলে ফোন দিলে ফোন রিসিভ না করায় তার কোন মতামত পাওয়া যায়নি।